মহাকাশ গবেষকদের মতে, চাঁদ যখন আবর্তনের সময় ঠিক পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে এবং সূর্যের আলোকে পুরোপুরি আড়াল করে দেয়, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়। এর ফলে দিনের বেলাতেও চারপাশ হঠাৎ আঁধারে ঢেকে যায় এবং দৃশ্যমান হয় তারামণ্ডল।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের মূল ভূখণ্ডে ১৯০৫ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ১২১ বছর পর এবারই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। দেশটির লিওন শহরের আকাশে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৮ মিনিটে এই দৃশ্য তৈরি হবে, যা প্রায় দুই মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
ইউরোপ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ মিলবে। আলাস্কা থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলিনা পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে এটি দৃশ্যমান হবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে এই আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এই মহাজাগতিক ঘটনা গবেষণার এক নতুন দুয়ার খুলে দেয়। নাসা জানিয়েছে, গ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর পরিবর্তনের প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে বিশেষ উচ্চ-উচ্চতার জেট বিমান ও বায়ুমণ্ডলীয় বেলুন ব্যবহার করা হবে।
নাসার হেলিওফিজিক্স বিভাগের কর্মকর্তা কেলি করেক জানান, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবী থেকে সূর্যের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও রহস্যময় বাইরের বায়ুমণ্ডল অর্থাৎ ‘করোনা’ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণের দুর্লভ সুযোগ তৈরি হয়। মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে সৌরজগতের এমন নিখুঁত দৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব নয়।
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এই বিরল দৃশ্যের পর পরবর্তী সূর্যগ্রহণের জন্যও বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী ২০২৭ সালের ২ আগস্ট আরেকটি আংশিক সূর্যগ্রহণ ঘটবে, যা স্পেনসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিস্তৃত অঞ্চল থেকে অবলোকন করা যাবে।