অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তাদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিক কোন যন্ত্র নয়, তারা মানুষ, ফলে তাদের সাথে মানবিক আচরণ করতে হবে। তারা আরও বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করা প্রয়োজন। তাদের স্বার্থ রক্ষা না হলে কোন উন্নয়নই টেকসই হবে না। মালিক-শ্রমিক এক পরিবারের মতো সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে তারা বলেন, উভয়ে একে অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সব দিক থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে মালিক-শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ও সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন। খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন শ্রম দপ্তরের পরিচালক মোঃ হাফেজ আহাম্মদ মজুমদার। মালিক প্রতিনিধির পক্ষে বক্তৃতা করেন বিজেএ’র চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির ও বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টারর্স এ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলাম জহির। শ্রমিক প্রতিনিধির পক্ষে বক্তৃতা করেন মহানগর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহবায়ক মোঃ মজিবর রহমান ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের খালিশপুর আঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ। জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দপ্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে খুলনা জেলার খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী এবং আড়ংঘাটা থানার বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মোট ১৪০ জনকে ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুনের নেতৃত্বে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক-মালিক-কর্মচারী, ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।