দীর্ঘদিনের পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার মধ্য দিয়ে বগুড়া পেল নতুন প্রশাসনিক কাঠামো ও উন্নয়নের বিস্তৃত সম্ভাবনা।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করা বগুড়া পৌরসভা উত্তরাঞ্চলের প্রাচীনতম পৌর প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সময়ের বিবর্তনে এটি ১২টি ওয়ার্ড থেকে বেড়ে ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয় এবং ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখে।
২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর আমলে পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ করে চারপাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার ফলে আয়তন দাঁড়ায় ৬৯.৫৬ বর্গ কিলোমিটার। সেই ধারাবাহিক উন্নয়নের পথ ধরে এবার সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়া নগরায়নের এক স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত ধাপ।
উপস্থিত ছিলেন, নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ।
এই উন্নীতকরণকে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে এটি নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
একই দিনে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সার্কিট হাউজে পৌঁছান। এরপর জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। পাশাপাশি আদালতে আধুনিক বিচারব্যবস্থার অংশ হিসেবে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
বগুড়ার এই রূপান্তর কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয় এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নগর উন্নয়নের একটি বড় বার্তা। দীর্ঘ ঐতিহ্য আর নতুন সম্ভাবনার সমন্বয়ে বগুড়া এখন এগোচ্ছে এক আধুনিক নগরীর পথে।