পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন রাত আনুমানিক ২টার দিকে নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা (মধ্যপাড়া) গ্রামের সালাহ উদ্দীন খাঁনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা একদল ডাকাত ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের হুমকি দিয়ে সালাহ উদ্দীন খাঁনের দুই হাত পিছনে বেঁধে ফেলে। হত্যার ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। যাওয়ার সময় সালাহ উদ্দীন খাঁন ও তার ছেলে আশিকুর রহমানকে গামছা দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সালাহ উদ্দীন খাঁন বাদী হয়ে নড়াগাতী থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নড়াইল জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি), সিসিআইসি এবং নড়াগাতি থানার একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। গত ২ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত নড়াইল, খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ ডাকাত ও ডাকাতির মালামাল ক্রয়ের অভিযোগে এক স্বর্ণকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জাকির মোল্লা জেকের আলী (৪৮), জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পা (৫৪), পারভেজ মৃধা দারোগা (৩৬), মফিজ খাঁ (৩৮), দীন ইসলাম মোল্লা (৪২), সরজিৎ কর (৪৫)।
খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার নদীযার চর (মধ্যপাডা) গ্রামের মৃত জলিল মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা জেকের আলী পেশায় মিস্ত্রী। তার নামে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় ২ টি ডাকাতি ও ৩ টি চুরির মামলা রয়েছে, নড়াগাতী থানার কলাবাড়ীয়া (তালুকদার পাড়া) গ্রামের সামচুল হক তালুকদারের ছেলে জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পা পেশায় শ্রমিক, তার নামে নড়াইল, খুলনা ও গোপালগঞ্জে ৩ টি ডাকাতি, ১ টি চুরি মামলা রয়েছে, কালিয়া থানার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামের আইয়ুব আলী মৃধার ছেলে পারভেজ মৃধা দারোগা পেশায় শ্রমিক। তার নামে খুলনা, গোপালগঞ্জ জেলায় ৩ টি ডাকাতি মামলা, ১ টি চুরির মামলা রয়েছে। কালিয়া থানার বাবরাহা হালসা ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের সিয়ার উদ্দিন খাঁনের ছেলে মফিজ খাঁ পেশায় মিস্ত্রী। তার নামে নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলায় ২ টি ডাকাতি, ১ টি চুরি মামলা রয়েছে। খুলনা জেলার তেরখাদা থানার নালিযাচর গ্রামরে কামাল মোল্লার ছেলে দীন ইসলাম মোল্লা পেশায় মাটি কাটা শ্রমিক। খুলনা জেলার রুপসা থানার আইচগাতি কামার পাড়া ১ নাম্বার ওয়ার্ডের মৃত ভূষণ করের ছেলে সরজিৎ কর পেশায় স্বর্নকার।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পাখিমারা গ্রামের ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে নড়াইলসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে থাকে।