দেশের মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে সংগৃহীত তথ্য এবং সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিএজের মে মাসের মাসিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এ মাসে অন্তত ৫০ জন সংবাদমাধ্যমকর্মী বিভিন্ন ধরনের হামলার শিকার হয়েছেন।
মে মাসে সারা দেশে অন্তত ২১টি ঘটনায় ৩৮ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং, রাজনৈতিক দলের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পেশাজীবী, ঠিকাদার এবং হাসপাতালকর্মীরা।
রাজনৈতিক নেতাকর্মী: পাবনা ও লালমনিরহাটে বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে ৩ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। নরসিংদীতে যুবদল নেতার মারধরের শিকার হন ২ জন। দাকোপ ও বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে ১ জন সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বগুড়ায় যুবলীগ এবং কেরানীগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় আরও ২ জন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: চট্টগ্রামে আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে ২ জন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া রাজবাড়ীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহকালে ২ জন সাংবাদিকের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মদ্যপ সন্ত্রাসীদের হামলায় ২ জন, মানিকগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় ১ জন এবং সাভারে সংবাদ সংগ্রহকালে মাদক কারবারিদের হাতে ৪ জন সাংবাদিক আহত হন। এছাড়া ঝালকাঠিতে একদল দুর্বৃত্ত এক সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করে।
পেশাজীবী ও অন্যান্য: চট্টগ্রামে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৩ জন সাংবাদিক আইনজীবীদের হামলার শিকার হন। ময়মনসিংহে একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার দলবল ৩ জন সাংবাদিককে মারধর করেন।
এ অবস্থায় বিএজে মনে করে, সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার এই দীর্ঘ তালিকা কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; বরং এটি দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এক বড় আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই বিএজে সাংবাদিকদের ওপর চলমান এই ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।