জানা যায়, ভিকটিম শিপ্রা রানী দাস জীবিকার তাগিদে কালু বাবুর্চি ও তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলের সঙ্গে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালের ১ অক্টোবর তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানাধীন নবীপুর এলাকার জলার চরে ফাইজুল হকের ফসলি জমি থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর ভিকটিমের স্বামী সবিনয় দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-০৬/২০২২ তারিখ ৯/০১/২০২২ )
নবীনগর থানা পুলিশ প্রায় ৬ মাস ১১ দিন মামলাটি তদন্ত করে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২২ সালের ২০ জুলাই পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআইতে মামলাটি হস্তান্তরের পর প্রথমে পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া তদন্তভার গ্রহণ করে দীর্ঘ তদন্ত পরিচালনা করেন এবং ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে মামলার অন্যতম সহযোগী আসামি কালু বাবুর্চি প্রকাশ কালু সাহাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেন।
পরবর্তীতে তিনি অবসর গ্রহণ করলে মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক আলী আশরাফ, পিপিএম-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে তিনি বদলিজনিত কারণে অন্যত্র কর্মস্থলে যোগদান করলে গত ২২মে এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে গত ২১ জুন রাত সাড়ে ১২টায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শিপ্রা রানী দাসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, ভিকটিমের সঙ্গে আসামি তাজুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে শিপ্রা রানী দাসকে হত্যা করে এবং মরদেহ জলার চরের ফসলি জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।