সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মাসগ্রেভ বলেন, ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
তিনি বলেন, এই সংকটের জ্যামিতি আসলে খুবই সহজ। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে সক্ষম।
তার মতে, চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা দরকষাকষিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা বেশি। ট্রাম্পের বর্তমান কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এখন একটাই চাল বা তাস আছে; আর তা হলো ইরানীদের মনে এই ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া যে—তারা যদি এখন মার্কিন শর্তে কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে জ্বালানির জন্য মার্কিন নাগরিকদের এখন আগের চেয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এর ওপর চলতি বছরের শেষের দিকে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (সিনেট ও প্রতিনিধি সভা) নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে।
এই রাজনৈতিক সমীকরণ উল্লেখ করে মাসগ্রেভ বলেন, সবাই স্পষ্ট বুঝতে পারছে যে, ইরানের চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এখন অনেক বেশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে আছেন।
অধ্যাপক মাসগ্রেভ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ইতিবাচক বা উৎসাহব্যঞ্জক কথাবার্তা শুনেই আমাদের আশ্বস্ত হওয়া ঠিক হবে না, বরং সতর্ক থাকতে হবে। ট্রাম্প যদি কোনোভাবে বুঝতে পারেন যে আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণভাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘চাপের মুখে পড়ে কোণঠাসা’ হয়ে গেছে, তবে নিজের এবং দেশের মুখরক্ষার তাগিদে তিনি যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারেন।