আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বক্তব্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও এশিয়াতেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় এক কূটনীতিক জানান, তাদের আশঙ্কা ছিল—রাশিয়া এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধেও একই ধরনের পারমাণবিক হুমকিকে বৈধতা দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে সেখান থেকেও স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাকি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বা সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে তারাও নিশ্চিত নন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন কূটনীতির ভেতরে এক বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত। বর্তমানে বিশ্বের অন্তত অর্ধেক মার্কিন দূতাবাসে স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বহু অভিজ্ঞ কূটনীতিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ইতিহাসবিদ মার্গারেট ম্যাকমিলান বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা হারাচ্ছে। তার মতে, এতে বৈশ্বিক অস্থিরতার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পুনর্গঠন কূটনীতিকে আরও কার্যকর ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্টের অধিকার রয়েছে কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন তা নির্ধারণ করার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক দেশ আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেলের পরিবর্তে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ এখন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখছেন, যদিও তাদের কারও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই।
ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেন সংকটের মতো ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে সমন্বয়ের অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিংক অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলেও এর কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের আকারও ব্যাপকভাবে ছোট করা হয়েছে। ফলে অনেক কর্মকর্তা নীতিগত দিকনির্দেশনার জন্য সরাসরি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের ওপর নির্ভর করছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে কখন গুরুত্ব দিতে হবে আর কখন উপেক্ষা করতে হবে—সেই ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। অনেক মিত্রদেশ এখন প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে নীরব কূটনীতির পথ বেছে নিচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয়।
তাদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু মার্কিন কূটনীতিক কাঠামোর সংকট নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির জন্যও দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বার্তা বহন করছে।