স্থানীয়দের অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন চারতলা ভবনটি কয়েক ইঞ্চি হেলে পাশের আক্তার পাটওয়ারীর চারতলা ভবনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভবন দুটির বর্তমান অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে উভয় ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত ভবন ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
পাশের ভবনের ম্যানেজার মাহা গাজী জানান, সোমবার সকালে ভবনটি কিছুটা হেলে পড়েছে বলে তাদের নজরে আসে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দুটি ভবনই পূর্বে ধানক্ষেতের জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কমান্ডার কামরুল ইসলাম বলেন, ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ভবন দু’টির নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নকশাকার আল আমিন জানান, ভবন দুটি ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয় এবং বর্তমানে উভয় ভবনই চারতলা বিশিষ্ট। ভবনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি জানার পরপরই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে গণপূর্ত বিভাগের এসডিও, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডারকে নিয়ে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটি ঈদের পর ঘটনাটি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত ভবন দুটিতে কেউ যেন বসবাস না করেন, সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশনার পর ভবন দুটির বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও পুরো এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে ভবনের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।