অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত আব্দুল জলিলের দুই ছেলে রাশেদ উন নবী ও রাব্বী সম্প্রতি পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি করে বাড়ির মাঝখানে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে আলাদা বসবাস শুরু করেন। তবে সম্পত্তি ও ঘর সংস্কারকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে রাশেদ উন নবী তার অংশে থাকা একটি ঘরের সংস্কার কাজ করছিলেন। এ সময় ঘরের একটি পাশ ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
লিখিত অভিযোগে রাশেদ উন নবী দাবি করেন, তার ছোট ভাই রাব্বী ও স্ত্রী মেমি বেগম লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। হামলার একপর্যায়ে রাব্বী তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে মাহফুজ ইসলাম প্রিয়র গোপনাঙ্গে কামড় দেন। এতে সে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়।
স্থানীয়রা আহত কিশোরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন নৃশংস ঘটনার কথা তারা আগে কখনও শোনেননি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
আহত কিশোরের বাবা রাশেদ উন নবী শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে আদমদীঘি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, ছেলের চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় মামলা করবেন।
আদমদীঘি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল আক্তার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাব্বী ও তার স্ত্রী মেমি বেগম আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রক্তের সম্পর্কের মধ্যে এমন সহিংসতার ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসীকেই বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এখন সবার নজর তদন্ত ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার দিকে।