সোমবার (২২ জুন) দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করেন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। কর্মশালায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, অভিভাবক, সাঁতার প্রশিক্ষক, আঁচল মা (শিশুযত্ন কেন্দ্রের যত্নকারী), ভিলেজ ইনজুরি প্রিভেনশন কমিটির সভাপতি, গণমাধ্যমকর্মীসহ ২৫ জন অশগ্রহণ করেন।
কর্মশালা পরিচালনা করেন সিআইপিআরবি ডেপুটি ডিরেক্টর আবুল বরকত, কমিউনিকেশন ডেপুটি ম্যানেজার ফারহানা ফেরদৌস, কমিউনিকেশন ম্যানেজার আরপোনা ঘোষ, ম্যানেজার- রিসোর্স মবিলাইজার শাহমিনা মান্নান, এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রজত সেন। তারা জানান, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ভৌগোলিক কারণে বাড়ির আশেপাশে প্রচুর পুকুর, ডোবা ও নদী থাকায় বরিশাল বিভাগে এই মৃত্যুর হার জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে ৩ গুণ বেশি। বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই অঞ্চলে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং শিশুদের জীবন সুরক্ষায় সিআইপিআরবি তালতলীতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহনশীল করার বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণে এই কর্মশালার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সিআইপিআরবি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে তালতলিতে যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইন্সটিটিউশন (আরএনএলআই) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে ২০১৬ সাল থেকে ভাসা ও নিরাপদে ভাসা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে সিআইপিআরবি ১০০টি আঁচল (শিশুযত্ন কেন্দ্র) পরিচালনার মাধ্যমে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২,৫০০ শিশুকে পানিতে ডুবা থেকে সুরক্ষা দিচেছ। একইভাবে প্রকল্পটির আওতায় গত ৭ বছরে প্রায় ১৪,০০০ শিশুকে সাঁতার শেখানো হয়েছে। চলতি বছর ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ২,৮০০ শিশুকে সাঁতার শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।