গত রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিডার জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মণ্ডল এ তথ্য জানান।
বিডা জানায়, ১৮০ দিনের এ কর্মপরিকল্পনা তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। মোট ২৫টি উদ্যোগের মধ্যে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে ১৩টি, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদারে সাতটি এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে পাঁচটি উদ্যোগ রয়েছে।
অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ
এ খাতে বন্দর আধুনিকায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন, শিল্পপার্কে ব্যবহার উপযোগী প্লট সম্প্রসারণ, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগ সহায়তা
এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বিনিয়োগকারীদের সেবা উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ—এই পাঁচ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, ‘বাংলাবিজ’ নামে একক বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, বৃহৎ কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সমস্যার লক্ষ্যভিত্তিক সমাধান এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিনিয়োগ উন্নয়ন
এ অংশে দেশের শিল্প খাতের মানচিত্র তৈরি, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে নির্দিষ্ট খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সুনীল অর্থনীতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, সামুদ্রিক চাষাবাদ ও রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ২৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী ধারা তৈরি করে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “আমাদের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বাস্তবায়নমুখী সংস্কারের মাধ্যমে দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আমাদের অগ্রাধিকার স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করা এবং তাদের বিনিয়োগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সহায়তা করা হবে, তবে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার দিকেই আমাদের মূল জোর থাকবে।”