র্যাব-১২ জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল তালপুকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. বাপ্পী হাসান (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে লোহার তৈরি দুটি চাপাতি, ১৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভোর ৫টার দিকে একই ইউনিয়নের শাবরুল হাটখোলাপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ সময় মো. ইউসুফ প্রামাণিক (২২), মো. জালাল মন্ডল (৩৮), মো. রাব্বি হাসান (২২), মো. মেহেদী হাসান (২৩), মো. রিপন প্রামাণিক (২৭), মো. আকাশ প্রামাণিক (১৯), মো. শুভ (২০), মো. কাইয়ম প্রামাণিক (১৯), মো. কাউছার হোসেন (২০) এবং ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে তাদের কাছ থেকে লোহার তৈরি ৯টি চাপাতি, একটি বার্মিজ চাকু, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ছুরি ও একটি বল্লম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ১১টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।
এক গ্রুপ, একাধিক মামলার ছায়া র্যাবের সিডিএমএস যাচাইয়ে গ্রেপ্তার বাপ্পী হাসানের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় ২০২৪ সালের একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর, চাঁদাবাজিসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার জালাল মন্ডলের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে র্যাব। এর মধ্যে কাহালু থানায় ২০২৩ সালের একটি মামলায় মারধর, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক ধারায়; বগুড়া সদর থানায় ২০১৯ সালের একটি মাদক মামলায় এবং শাজাহানপুর থানায় ২০২৩ সালের একটি অস্ত্র আইনের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, জালাল মন্ডলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা থাকা এবং এবার বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় ‘জালাল গ্রুপ’-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ইয়াবার সঙ্গে অস্ত্র—অপরাধের দ্বৈত জাল?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একসঙ্গে ইয়াবা ও বিপুলসংখ্যক ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা শাজাহানপুরের শাবরুল এলাকায় অপরাধী চক্রের তৎপরতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এনেছে। বিশেষ করে গ্রুপটির সঙ্গে তরুণ ও কিশোরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার ফিরোজ আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে জব্দ করা আলামতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শাজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের এই অভিযানে মোট ১১ জন গ্রেপ্তার, ১১টি ধারালো অস্ত্রসহ মোট ১৫টি দেশীয় অস্ত্র, ১৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭টি মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।