স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে কানছগাড়ি শিব মন্দির, শীতলা মন্দির ও মহাশ্মশান মন্দিরে থাকা প্রতিমাগুলো ভাংচুর করা হয়। শনিবার বেলা ১২টার দিকে নিয়মিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে ভক্তরা প্রতিমাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা দেখতে পান। পরে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারণ, প্রশাসন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
কানছগাড়ি মহাশ্মশান কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ জানান, প্রতি মাসের নির্ধারিত শনিবারে এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার অনুষ্ঠান উপলক্ষে এসে তারা দেখতে পান প্রতিমাগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শিবগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর দত্ত বলেন, “একসঙ্গে তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এসময় পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য কনক দেব, সঞ্জয় কুমার সাহা, কাজল কুমার, মিন্টু কুমার সাহা, নয়ন সরকার ও উৎপল কুমারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এলাকায় এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।