রবিবার (৩১ মে) বগুড়া মহানগরের দত্তবাড়ীতে অবস্থিত হাসপাতালের হলরুমে নবগঠিত পরিচালনা কমিটির প্রথম সভায় এমন প্রত্যাশার কথাই উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালটি উত্তরাঞ্চলের শিশুদের জন্য একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর হাসপাতালটি শিশু চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা প্রতিকূলতায় এর কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি।
তারা জানান, নতুন পরিচালনা কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক শিশু হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। শুধু সাধারণ চিকিৎসাসেবা নয়, ভবিষ্যতে অ্যাজমা ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটির অবকাঠামোগত ও সেবাগত উন্নয়ন প্রয়োজন। নতুন কমিটি হাসপাতালকে জনমুখী ও আধুনিক চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল হক দেওয়ান সজলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা ও বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, ডা. আজফারুল হাবিব রোজ এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেলসহ অন্যান্যরা।
সভায় হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং শিশুস্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন কমিটির নেতৃত্বে হাসপাতালটির কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
"একটি হাসপাতালের গল্প নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের শিশুস্বাস্থ্যের নতুন স্বপ্ন জাগানোর গল্প"—এমন মন্তব্যও শোনা গেছে সভায় উপস্থিত অনেকের মুখে।