রোববার (৩১ মে) শিশু ২টির বাবা মাসুম বেপারী বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে থানায় মামলা করেছেন। মামলা নাম্বার ২৯।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ডিউটি অফিসার হাসানুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদী মাসুম বেপারীর দাবি এ হত্যাকান্ডে তার সাবেক স্ত্রী মেরি ও তার বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলাম জড়িত রয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার দারুল আমান মসজিদ গলির মাথায় শরিফুল ইসলামের ভাড়া বাড়ি থেকে তালা ভেঙে নানী বেবি বেগম (৬৫) ও তার দুই নাতি শামীম (১৪) ও মুস্তাকিমের (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে গত তিন দিন ধরে শরিফুল ইসলামের ওই ভাড়া বাসাটি বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পাচ্ছিলেন প্রতিবেশীরা। দীর্ঘ সময় ঘর বন্ধ থাকা এবং চারপাশের রহস্যজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তারা বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে জানান।
খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে একটি কক্ষ থেকে বেবী বেগম ও শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে পরিবারের আরেক শিশু সদস্য মুস্তাকিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ঘটনাস্থলে ডিবি পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা এসে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে একটি কক্ষের ওয়ারড্রব খুলে চার বছর বয়সী মুস্তাকিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, নিহত দুই সন্তানের মা ফাতেমা বেগম মেরির দ্বিতীয় স্বামী ট্রাক ড্রাইভার রফিকুল হাওলাদার মাতাল অবস্থায় তাদেরকে হত্যা করেছে। নিহত দুই শিশু মেরির প্রথম ঘরের সন্তান।
ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন মেরির বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলাম। পেশায় ট্রাকচালক রফিকুল খুলনা
মহানগরের দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা।
মহেশ্বরপাশা এলাকার কয়েকজন ট্রাক ড্রাইভার জানান, রফিক মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায় মাতাল থাকতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করার জোর চেষ্টা চলছে। ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে ফাতেমা বেগম মেরিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ফাতেমা বেগম মেরি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, গত চার বছরের সংসারে দ্বিতীয় স্বামী রফিকুলের সাথে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। শুক্রবার রাতে মাতাল অবস্থায় ছিল রফিকুল। এ সময় শাশুড়ি বেবী বেগমের সাথে তর্কে জড়ান রফিকুল। এরপর কি হয়েছে আর বলতে পারেননি মেরি।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে, আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলার ঘাতক ট্রাক ড্রাইভার রফিকুল হাওলাদারকে আটকের জন্য একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
র্যাব ও পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে মহানগরীর কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তার মোবাইল ট্রাকিং করে দেখা যায় বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছেন রফিকুল বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।