বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (১২) ও মাইক্রোবাসচালক রিন্টু (৪৭)। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী মাইক্রোবাসটি ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গাড়িতে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ প্রায় ছিল না। চালক রিন্টু ঘটনাস্থলেই মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো গাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়। মানুষের চিৎকার আর আগুনের লেলিহান শিখায় সৃষ্টি হয় ভয়ংকর পরিস্থিতি। খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠায়।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান, পরে হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই দুর্ঘটনা আবারও যাত্রীবাহী যানবাহনে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঈদের আনন্দযাত্রা বারবার শোকযাত্রায় পরিণত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।