ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য মোট ৪২টি জাহাজ বুকিং করা হয়েছিল। এতে প্রায় ১,৬০০ পর্যটকের অংশ নেওয়ার কথা। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে এই ভ্রমণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হলেও ২২ মার্চ ৫টি জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে বাকি ৩৭টি জাহাজ সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ জাহাজ খুলনা থেকে এবং ৩টি মোংলা থেকে যাত্রা করবে। ৩ দিনের এই ট্যুরে পর্যটকরা সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, কচিখালি, আন্দারমানিক, টাইগার হীল ও হিরন পয়েন্ট ভ্রমণ করবেন।
ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবনের (টোয়াস) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম কচি জানান, বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত লিটার প্রতি ৪ টাকা অতিরিক্ত দরে ডিজেল কিনতে হয়েছে জাহাজ মালিকদের। এর ফলে অপারেশনাল খরচ অনেকটা বেড়ে গেলেও পর্যটকদের ওপর কোনও বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ট্যুর থেকে জাহাজ মালিকদের লাভের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ট্যুরিস্ট জাহাজ ব্যবসায়ী মো. সোহাগ মোল্লা জানান, তেলের প্রকট অভাবের মাঝেও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি সংগ্রহ করে বিদেশি পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এমভি উৎসব জাহাজের স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “তেলের জোগান পাওয়ায় আমরা নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা করতে পেরেছি। তবে তেলের এই সংকট অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুন্দরবন পর্যটন খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার আঁচ সরাসরি লাগে সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটনে। সুন্দরবন কেন্দ্রীক ৭০টি পর্যটন জাহাজ রয়েছে। ঈদুল ফিতরের জন্য ৪২টি জাহাজ বুকিং নেয়। এ সব জাহাজও তেল সঙ্কটে সুন্দরবন যাত্রা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেছিল।
খুলনা অঞ্চল কেন্দ্রিক মোট ৭০টি পর্যটন জাহাজের মধ্যে ৪২টি এবার ঈদের মৌসুমে বুকিং পেয়েছে। তেল সঙ্কটে এসব জাহাজের সুন্দরবন যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এই যাত্রার মধ্য দিয়ে সেই অনিশ্চয়তা কাটলো।