সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাতের কাঁচামাল আমদানিও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পোশাকসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের অর্ডারে। এর ফলে তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে এবং বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন (১ হাজার ৬৯১ কোটি ৩ লাখ) ডলার। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন (১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৯ লাখ) ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে (ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন (৩১৩ কোটি) ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। ফলে এ খাতে অর্ডার কমে গেলে সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও ভারসাম্যের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো বাণিজ্য চুক্তি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। তারা বলেন, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতেও বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ৪ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যেও উন্নতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।