জিসিআই ওয়ার্ল্ড মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরি’র একটি গ্লোবাল এডুকেশন প্রোগ্রাম, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এবছর ১১৪টি দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছিল প্রায় ৮০০ জন শিক্ষার্থী।
প্রোগ্রামে অন্যতম আকর্ষণ ছিল জিসিআই ওয়ার্ল্ড হ্যাকাথন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সমস্যার জন্য এআই-চালিত সমাধান তৈরি করে। সেসময় জাপানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এআই ল্যাব মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরি’র গবেষকরা বক্তৃতা রাখেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং ব্যবসায়িক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
গতকাল (৮ জুলাই) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাপনী পর্বে অনলাইনের মাধ্যমে ও সরাসরি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করে। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে উৎসাহ প্রদান করা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম এআই ট্যালেন্ট গড়ে তোলা।
এ প্রসঙ্গে জাইকা বাংলাদেশ-এর সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মোরিকাওয়া ইউকো বলেন, “এআই শিক্ষাকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, গবেষণা ও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিজেদের সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ নিজ থেকেই করতে পারবে বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে, বাংলাদেশ বিশ্বকে নতুন নতুন উদ্ভাবনও উপহার দিতে পারবে।”
প্রোগ্রামের সমাপনী পর্বে, যারা ‘আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট’ অর্জন করেছে, তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিশ্বজুড়ে নির্বাচিত ১৭ জন ‘আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট’ এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেও একজন শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছে। এই কৃতী শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাৎসুও ল্যাব’ পরিদর্শনের সুযোগ পাবে।
এই আয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে জাইকার ধারাবাহিক সহযোগিতার একটি অংশ। জিসিআই ওয়ার্ল্ডের মতো বিশ্বব্যাপি স্বীকৃত একাডেমিক প্রোগ্রামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে এআই, ডেটা সায়েন্স ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাইকা সাহায্য করছে, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।