লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে অভিযুক্তরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তারা বসতঘরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাধা দিতে গেলে সোহাগ হাওলাদার নামে এক যুবককে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং পরে তাকে একটি বাথরুমে আটকে রাখা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা ট্রাংক ও আলমারি ভেঙে প্রায় ৯ ভরি ১০ আনা ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জান্নাতি বেগমের স্বামী মাইনুল ইসলাম খান আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস করেন। পরিবারের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান গহনা রয়েছে—এ বিষয়টি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিল। তাদের অভিযোগ, এ কারণেই আগে থেকেই বাড়িটি অভিযুক্তদের টার্গেটে ছিল। সুযোগ বুঝে পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার আগের দিন ভুক্তভোগীর ছেলে ইয়াসিন ফকির ও তার এক বন্ধু র্যাবের হাতে আটক হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকার অয়ন শেখ (৩০), শাওন শেখ (২৫), সাকিব শেখ (১৯), শিরিনা খাতুন (৪৫), আশিক (১৯) ও জাহাঙ্গীর শেখ (৫৮)।
ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।