রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়ার দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার একটি বাড়িতে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন ওই এলাকার কাওছার শেখের ছেলে। অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগী মো. ইকরান শেখ (৩৩) কৌশলে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ডিবি (উত্তর)-এর একটি চৌকস দল আশুলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে নিয়োজিত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে, দক্ষিণ ভাদাইল এলাকায় জাকির হোসেনের বসতবাড়ির একটি রুমে গোপনে ইয়াবা তৈরি ও পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাত ১১টা ৫ মিনিটে ডিবি পুলিশের দল ওই কারখানায় হানা দিয়ে হাতেনাতে জাকিরকে গ্রেফতার করে।
অভিযানে উদ্ধার করা ৫৪৭ পিস ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া ইয়াবা তৈরির জন্য মজুদ রাখা ২৭৫ গ্রাম সাদা রঙের ক্যাপেইন, ২৭৫ গ্রাম হালকা গোলাপী রঙের ক্যাপেইন এবং ৮২ গ্রাম লাল গোলাপী রঙের ক্যাপেইন জব্দ করা হয়।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, "গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন মূলত একজন পেশাদার মাদক কারিগর ও ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজের বসতঘরেই ডাইস ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে ইয়াবা তৈরি করে আসছিল। এরপর উৎপাদিত এই ইয়াবা আশুলিয়াসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা সরবরাহ করত। মাদকের এই মিনি কারখানার উৎস ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে আমাদের তদন্ত চলছে। ঢাকা জেলাকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের এই ধরনের কঠোর ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১টি সিআর মামলা রয়েছে। এই চক্রের পলাতক আসামিসহ জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।