লিওনেল স্কালোনির অধীনে টানা দু’বার ফুটবলের চূড়ান্ত মহারণী ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লুসাইলের সেই উৎসবের রাত। টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকলেও ২০২৬ আসরে তাদের থামিয়ে দিয়েছে স্পেন। ডিসেম্বরের পর স্কালোনি আর আলবিসেলেস্তেদের দায়িত্বে থাকা নিয়ে যখন সংশয়ে আছেন, তখন শিষ্য ফুটবলাররা কোচিং চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানালেন।
ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে স্কালোনির। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের হারের পর ডিসেম্বর শেষেই তিনি বিদায়ের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন। যদিও পরবর্তীতে সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এএফএ’র সঙ্গে তার চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো।
বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ এখনও সংশয়ে থাকলেও, দ্বিধা নেই ফুটবলারদের। ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়রা দেশে ফিরেছেন। বুয়েন্স আয়ার্সে পা রেখে মঙ্গলবার অনুশীলন শুরু করা তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ বলছেন, ‘আমার কাছে তিনি (স্কালোনি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোচদের একজন। তিনি আমার (আন্তর্জাতিক) অভিষেক করিয়েছেন এবং আমি আশা করি তিনি (প্রধান কোচের দায়িত্ব) চালিয়ে যাবেন।’
সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তেরা। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি দিয়ে জাতীয় দল থেকে বিদায় নেবেন মেসি। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড উঠতে পারে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হাতে। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার গুরু স্কালোনিকে নিয়ে বললেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা– তিনি থাকবেন। জাতীয় দল গড়ে তোলার নেপথ্যে তিনি প্রধান ভূমিকা রেখেছেন, তাই সবাই চায় তিনি যেন (কোচিং) অব্যাহত রাখেন।’
তরুণ ডিফেন্ডার লিওনার্দে বালের্দির মতে, স্কালোনি প্রধান কোচের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়াটা হবে তাদের জন্য ‘একটি বিশেষ সুযোগ’। বেনফিকার উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি তার ক্যারিয়ারে এই কোচের প্রভাব তুলে ধরলেন এভাবে, ‘জাতীয় দলের জন্য সম্প্রতি তিনি নিজের সবটুকু দিয়েছেন এবং সকল আর্জেন্টাইনকে খুশি করেছেন।’
গোলরক্ষক হুয়ান মুসো দলের সবার মাঝে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের কৃতিত্ব দিলেন ৪৮ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ডকে, ‘তিনি যে সাফল্য পেয়েছেন এবং এই দলের সঙ্গে যা গড়ে তুলেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখি এবং তার প্রতি আমাদের গভীর অনুরাগ রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ৮ বছর আগে যখন স্কালোনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরীরা ছিল বিপর্যস্ত। তখন প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছিলেন না কেউই। সেই দলকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তুলে স্কালোনি পরপর কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪) এবং মাঝে কাতার বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছেন। এই সময়ে তার অধীনে আর্জেন্টিনা ১০৪ ম্যাচ খেলে রেকর্ড ৭৬টি জয় ও ১৮ ড্র করেছে; হেরেছে স্রেফ ১০ ম্যাচ। সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে স্কালোনির সর্বোচ্চ ৩৬ ম্যাচ অপরাজেয় থাকার রেকর্ড থেমেছে।