ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অন্য দেশগুলোও হরমুজ প্রণালি খুলতে সহায়তা দেবে বলে প্রস্তাব দিচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশও এই প্রণালি ব্যবহার করে। তাই আমরা দেখছি অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসছে এবং তারা সহায়তা করবে। এটি সহজ হবে না। তবে আমি বলবো আমরা খুব শিগগিরই এটি খুলে দেবো।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রাখায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) পরিবাহিত হয়, যা এটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিণত করেছে।
ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কারণ তারা হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে যথেষ্ট সহায়তা করেনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইউরোপীয় দেশগুলোকে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণালি নিরাপদ রাখতে তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এই যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প মঙ্গলবার তেহরানের সঙ্গে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যদিও এর আগে তিনি ইরানের “সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস” করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এখনো পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।