সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন রণতরীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে। বর্তমান সামরিক অবস্থানকে ‘রিসেট’ বা নতুন বিন্যাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন কৌশলগত প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে রণতরীগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আলোচনায় সমাধান না এলে এসব অস্ত্র কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনা সফল হবে কি না—তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে বলে জানান ট্রাম্প।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের হাতে শক্তিশালী কোনো কৌশল নেই এবং তারা আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের কিছু নেতাকে কেবল আলোচনায় বসার সুযোগ দেওয়ার জন্যই এখনো টিকে থাকতে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অতীতে আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যা বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করেছে।
তিনি জানান, ইরান আলোচনায় আগ্রহী থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রকৃত চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ইরানের অধিকার স্বীকার করে, তাহলে তারাও ইতিবাচক সাড়া দেবে।
পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তেজনা।