৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। রবিবারের এই শোকাবহ খবরে বিশ্বজুড়ে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আশা ভোঁসলে ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন। অর্জন করেছেন বহু সম্মাননা, যার মধ্যে রয়েছে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে প্রাপ্ত পদ্মভূষণ। ১৯৯৭ সালে তিনি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড-এর জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’ প্রভৃতি।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রে এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহীন হওয়ার পর বড় বোন লতা মঙ্গেশকর-এর সঙ্গে সংগীতে পথচলা শুরু করেন তিনি।
১৯৪৩ সালে একটি মারাঠি সিনেমার মাধ্যমে প্লেব্যাক ক্যারিয়ার শুরু হয় এবং ১৯৪৮ সালে ‘চুনরিয়া’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। শুরুর দিকে শমশাদ বেগম-এর মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের ছায়ায় থাকলেও, পঞ্চাশের দশকে ও. পি. নাইয়ার ও এস. ডি. বর্মন-এর সুরে তার প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। পরবর্তীতে আর. ডি. বর্মন-এর সঙ্গে তার জুটি সত্তর ও আশির দশকে আধুনিক সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করে।
‘উমরাও জান’ চলচ্চিত্রের গজলের মাধ্যমে তিনি তার কণ্ঠের ধ্রুপদী গভীরতা তুলে ধরেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হাজার হাজার গান গেয়ে তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ স্বীকৃতি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি পদ্মবিভূষণ ও একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করলেও পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে আর. ডি. বর্মনকে বিয়ে করেন। সংগীতের পাশাপাশি রান্নার প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে বিশ্বজুড়ে ‘Asha’s’ নামে তার রেস্তোরাঁ চেইনও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তার মৃত্যুতে এক অনন্য সংগীতযুগের অবসান ঘটল।