৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট: ঋণ, রাজস্ব আর মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জে সরকারের প্রথম পরীক্ষা
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
|
২০২৬-০৬-০১ ১১:৩৯
সিইও: সাজ্জাদ হোসেন
বাংলাদেশ অফিস: ইউরোপা টাওয়ার, ফ্ল্যাট ৩/বি, ৩৮৩/১/এফ বিটিভি সংলগ্ন, পূর্ব রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যুক্তরাজ্য অফিস: লেক্স হাউস, ১-৭ হেইনল্ট স্ট্রিট, ইলফোর্ড আইজি১ ৪ইএল, যুক্তরাজ্য।
ফোন : +৪৪ ৭৪৯৫ ৯২২৫৮২
© ২০২৬ | চ্যানেল ১৮ কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | Powered by: channel18 IT
দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এই বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ও আলোচনা দুটোই বেশি। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করা। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের প্রশ্ন—বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?
চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজস্ব ঘাটতি ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ব্যয় মেটাতে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নিতে হয়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরে আরও বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি এবং আমদানি কমে যাওয়াও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ এবং অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করতে চায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়াবে।
আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া ঋণ এখন পরিশোধের পর্যায়ে চলে আসায় এই চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
মূল্যস্ফীতিও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা, জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ মূল্য সমন্বয়ের কারণে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে সমন্বয়ের পরিকল্পনা উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বাড়াতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এ বরাদ্দের আওতায় থাকবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতও পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে প্রায় ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রায় ৪৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখাতে না পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একদিকে যেমন উচ্চাভিলাষী, অন্যদিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও বয়ে আনছে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এখন শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং তাদের অর্থনৈতিক দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এই বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ও আলোচনা দুটোই বেশি। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করা। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের প্রশ্ন—বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?
চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজস্ব ঘাটতি ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ব্যয় মেটাতে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নিতে হয়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরে আরও বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি এবং আমদানি কমে যাওয়াও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ এবং অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করতে চায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়াবে।
আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া ঋণ এখন পরিশোধের পর্যায়ে চলে আসায় এই চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
মূল্যস্ফীতিও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা, জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ মূল্য সমন্বয়ের কারণে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে সমন্বয়ের পরিকল্পনা উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বাড়াতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এ বরাদ্দের আওতায় থাকবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতও পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে প্রায় ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রায় ৪৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখাতে না পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একদিকে যেমন উচ্চাভিলাষী, অন্যদিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও বয়ে আনছে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এখন শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং তাদের অর্থনৈতিক দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।