মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নয় বছরেও প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়া সত্যিই উদ্বেগজনক। ইউরোপ চায়, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা হোক।
মিলার জানান, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। চলতি বছরেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়েও ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বিশাল জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় একটি দেশ। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর তিন বছর পর্যন্ত কর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এরপরও যেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পথচলা মসৃণ থাকে, সে বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়েও কথা বলেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র সঠিক পথেই রয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের যে চর্চা, বাংলাদেশও তার মধ্যেই রয়েছে। জনগণের মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হওয়াকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানোর যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।
এ ছাড়া ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে দালাল, প্রতারক ও মানবপাচারকারীদের চক্র ভেঙে দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।