জানা যায়, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলার সংযোগ নদী হিসেবে পরিচিত কান্তাবতী নদীর ওপর ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাল্লা ইউনিয়নের ডাকরখালি-হাপানিয়া এলাকায় একটি সরু স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। তবে স্লুইস গেটটি সরু হওয়ায় শুরু থেকেই পানি প্রবাহে সমস্যা দেখা দেয়। পরে প্রায় আট বছর আগে বন্যা মৌসুমে গ্রামের মাঝের একটি রাস্তা ভেঙে যায়। প্রবল পানির চাপে একটি বসত বাড়িও ভেঙে যায়। পরবর্তীতে কেউ একজন রাত এর আধারে সুইচ গেটের সংযোগ সড়কে একটি সরু নালা তৈরি করে দেন। পরে পানির চাপ বেড়ে গেলে স্লুইস গেটের এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায় এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ১০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সংযোগ সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আট বছর পেরোলেও এখনো পর্যন্ত পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দাদরুখি, বাসদি, লোহাচালা, শাকরাইল, হাপানিয়া, মহিষাখোলা, সোরাই, গঙ্গাসাগর, গোড়াইল, ধানধারা, কাচিধারা গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। নদীর পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা থাকলেও সে রাস্তার অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। রাস্তাটি সরু এবং সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন, কৃষিকাজ ও রোগী আনা-নেওয়ায় পড়তে হয় নানা জটিলতায়।
তবে গ্রামবাসীরা বলছেন অপরিকল্পিতভাবে সরু স্লুইস গেট নির্মাণ করার কারণে সংযোগ সড়কটি ভেঙে গেছে। স্লুইস গেটের কারণে নৌকা চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। সংযোগ সড়কটি পুনর্নির্মাণ হয়নি দীর্ঘদিনেও, বরং জায়গাটি বারবার সরকার থেকে পরিদর্শন করে গেলেও কোনো সমাধান পায়নি গ্রামের মানুষ। গ্রামবাসীর দাবি, স্লুইস গেট অপসারণ করে একটি ব্রিজ নির্মাণ করলে ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, স্লুইস গেট অপসারণ করে কান্তাবতী নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে দুর্ভোগ কমবে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, এই গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। রাস্তাটি ভাঙ্গা হওয়ায় একটি বিকল্প রাস্তা থাকলেও সেটি এতটাই সরু যে একটা সাইকেল নিয়ে পর্যন্ত ভালোভাবে যাতায়াত করা যায় না। রাস্তা না থাকায় কৃষিপণ্য আনা নেওয়া, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং চলাচলে চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানাই।
আরেক বাসিন্দা কুদ্দুস আলী বলেন, ‘স্লুইস গেটটি চাপা হওয়ায় নৌকা চলতে পারে না, পানিও ঠিকমতো যাইবার পারে না। এইটার বদলে একটা ব্রিজ বানাইলে কয়েক গ্রামের মানুষের অনেক উপকার হইবো।’
হরিরামপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, স্লুইস গেটের অ্যাপ্রোচ সড়কের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।