নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি জায়গা করে নেবে শেষ ৩২-এর পর্বে। কিন্তু ১২ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় স্থান পর্যন্ত হিসাব করলে দল হয় ২৪টি। বাকি আটটি জায়গা পূরণ হবে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে।
১২টি গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোকে নিয়ে আলাদা একটি র্যাঙ্কিং তৈরি করা হবে। সেখান থেকে সেরা আটটি দল যাবে শেষ ৩২-এর পর্বে। অর্থাৎ কোনো দল গ্রুপে তৃতীয় হলেও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি বেছে নিতে ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রথমে দেখা হবে গ্রুপ পর্বে অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও নিজেদের করা গোলের সংখ্যা। এরপরও যদি দুই বা একাধিক দলের হিসাব সমান থাকে, তাহলে বিবেচনায় আসবে—ফেয়ার প্লে রেকর্ড (হলুদ ও লাল কার্ডের হিসাব)
এই নিয়মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে কোন আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হবে ২৮ জুন। এরপর ২৮ জুন থেকে শুরু হবে শেষ ৩২-এর লড়াই, যা চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। এরপর শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল পেরিয়ে ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
আগে কি তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে দল?
হ্যাঁ, বিশ্বকাপে এর আগেও তৃতীয় স্থান থেকে নকআউটে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ২৪ দলের ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় হওয়া ৪টি দল শেষ ষোলোতে উঠেছিল।
তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে ৩২ দলের ফরম্যাট চালু হলে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলই নকআউটে যাওয়ার নিয়ম চালু হয়। এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে আবারও ফিরে এসেছে তৃতীয় স্থানধারীদের সুযোগ।
তবে ইতিহাস বলছে, গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ জেতার নজির নেই। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইতালি; দুই দলই ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার পরও ফাইনালে উঠেছিল।