কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের মাধ্যমে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে চারটি কোর্স চালু রয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৫০টি করে আসন থাকায় মোট আসন সংখ্যা ২০০। তবে চার বছরে কলেজটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫৮ জন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই কলেজ ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন। ফলে আসন থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।
বর্তমানে অধ্যক্ষের পাশাপাশি মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ নার্সিং শিক্ষায় তাত্ত্বিক পাঠের পাশাপাশি ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি কোর্সে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করায় শিক্ষা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে কলেজটি এখনো আইবাস++ (iBAS++) কোড পায়নি। এতে প্রতিষ্ঠানের পদ সৃষ্টি, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কলেজে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। সরকারি নার্সিং কলেজে ভর্তি হয়ে উন্নত শিক্ষা পরিবেশ পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবারের কাছ থেকে বাড়তি টাকা এনে প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হচ্ছে।
ছাত্রীদের জন্য কলেজে হোস্টেল থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হোস্টেলের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও পর্যাপ্ত সহায়ক জনবল নেই। চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মচারী না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কাজে সমস্যা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, হোস্টেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে যাতে কোনো শিক্ষার্থী কলেজ ছেড়ে যেতে বাধ্য না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কলেজের অধ্যক্ষ (আঃদাঃ) মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, একটি নার্সিং কলেজের জন্য অবকাঠামোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত শিক্ষক-প্রশিক্ষক, সহায়ক কর্মচারী, নিরাপদ আবাসন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এসব ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা না হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করা কঠিন হয়ে পড়বে।