এর মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের গো-ডাউন এলাকায় রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ‘উত্তরণ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের ব্যবস্থা না রেখেই সেখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসা ও সেবার নামে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। অথচ সেই অনুপাতে চিকিৎসা, খাবার ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের নামে ১০ শয্যার লাইসেন্স থাকলেও সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়। কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক বা নার্সের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা নেওয়া এক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন রোগীর কাছ থেকে তিন মাসের জন্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে টাকা নেওয়ার তুলনায় খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা যথাযথ নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোগীদের কয়েকজন স্বজনের অভিযোগ, অনেক সময় রোগীদের নিয়মিত ও পরিমাণমতো খাবার দেওয়া হয় না। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রশিক্ষিত নার্সের সেবা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। এমনকি রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্বজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন অভিযোগ, ‘রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। কখনো কখনো মারধরের কথাও রোগীরা জানিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন, চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত জনবল ও নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে রোগীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
(সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা)
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা শিপন নামের এক ব্যক্তি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।’
(কর্তৃপক্ষের বক্তব্য)
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে উত্তরণ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি মকুল শেখের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মনীতি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি করবেন বলেও জানান তিনি।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে অতি শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে সংশ্লিষ্টদের কার্যালয়ে এসে যোগাযোগ করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের স্বজনদের দাবি, উত্তরণ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স ও অনুমোদন, রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসক-নার্সের উপস্থিতি, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা, খাবারের মান, রোগীদের নিরাপত্তা এবং স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিষয়গুলো তদন্ত করা হোক।
তাঁদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক নিরাময় কেন্দ্রটির অনুমোদন ও কার্যক্রমের বৈধতাও খতিয়ে দেখা জরুরি।