জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ৮৯টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ২১টিতে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনের বয়স ৯ মাসের কম এবং বাকিদের বয়স এক বছরের বেশি।
গত দুই মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসেই অন্তত ১০ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে বসন্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আইসোলেশন ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের পাঁচ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শিশু হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের সাধারণত হামের টিকা দেওয়া হয় না। এ বয়সে তারা মায়ের শরীর থেকে পাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে সেই সুরক্ষা কার্যকরভাবে কাজ করছে না কেন, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে ৯ মাসের বেশি বয়সী আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই টিকা নেয়নি। কেউ অসুস্থতার কারণে টিকা নিতে পারেনি, আবার কারও টিকাদান কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় টিকা সম্পন্ন হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে, হামের প্রধান লক্ষণ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত), তীব্র কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে তাদের স্কুলে না পাঠিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, শিশুদের হামের টিকা সাধারণত ১০ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। তবে টিকা নেওয়ার আগেই অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে।