বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নারী শ্রমিক আঙ্গুরি খাতুনের (৪৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের জেলখানা এলাকার কাছে যমুনা নদী থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।
আঙ্গুরি খাতুন ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি প্রতিদিনের মতো চরের জমিতে কৃষিশ্রমিকের কাজ করতে যেতেন।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র নারী-পুরুষ প্রতিদিন সকালে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে চরে যান কাজের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যায় ফেরেন বাড়িতে। নদীই তাদের জীবিকার পথ, আবার কখনো কখনো সেই নদীই হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ।
নিহতের মেয়ে লাবনি আক্তার বলেন, নৌকাডুবির পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অনেক খোঁজ করেও তাঁর মায়ের সন্ধান পায়নি। পরে শনিবার সকালে স্বজনদের নিয়ে নৌকায় করে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভাটির দিকে খোঁজ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে সিরাজগঞ্জ শহরের কাছে যমুনার মাঝখানে ভাসতে থাকা মরদেহটি দেখতে পান।
তিনি বলেন, “মাকে খুঁজে পাওয়ার আশায় দুই দিন নদীতে নদীতে ঘুরেছি। শেষ পর্যন্ত মাকে পেলাম, কিন্তু জীবিত না।”
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে সকাল ১০টার দিকে ধুনট উপজেলার বানিয়াজান ঘাট এলাকা থেকে নয়জন নারী শ্রমিক একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে উজান মিয়া খোলা চরের দিকে রওনা হন। পথে নদীর মাঝখানে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয়রা নৌকার চালকসহ আট নারী শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করলেও নিখোঁজ হন আঙ্গুরি খাতুন।