মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর আয়োজিত "বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান" শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগে। এর পেছনে অনিয়ন্ত্রিত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান নিয়মে মোড়কের পেছনে জটিল ও অতি ক্ষুদ্র অক্ষরে পুষ্টিগুণ লেখা থাকে, যা সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে না জেনেই মানুষ ক্ষতিকর খাবার কিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, “প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি আমাদের অজান্তেই জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। শিশু ও তরুণদের অসংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষায় এফওপিএল প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করছি। নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে একটি সহজ ও বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি প্রণয়নে কাজ চলছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ বলেন, “আমরা প্রায়ই না জেনে সন্তানদের হাতে ক্ষতিকর প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তুলে দিই। সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারের কাছে জনস্বাস্থ্যের দাবি পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের নিয়মিত ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।”
বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার মহুয়া জানান, প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতি-আসক্তির কারণে অল্প বয়সেই শিশুরা স্থূলতা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্যাকেটের সামনের অংশের সহজ সংকেত থাকলে ক্রেতারা দ্রুত পুষ্টিকর ও ক্ষতিকর খাবারের তফাত বুঝতে পারবেন।
বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন চিলি ও মেক্সিকোর উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালুর পর ভোক্তাদের সচেতনতা বেড়েছে এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরিতে বাধ্য হয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে এফওপিএল নীতি বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
কর্মশালায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা একমত হন যে, নিরাপদ খাদ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাধ্যতামূলক এফওপিএল প্রবিধানমালা দ্রুত প্রণয়ন করা দরকার। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা এ বিষয়ে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অঙ্গীকার করেন।