বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা সরকারের ব্যক্তিগত ডিভাইস নয়। জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল শক্তি এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হলে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, জনগণের সম্মিলিত মতামতই রাষ্ট্রকে পরিচালিত করে। নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করা।
সভায় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে সংবিধান, আইন ও বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা সব আইন ও বিধির মূল ভিত্তি। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে সেই আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে থাকা সক্ষমতাকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত করতে পারলে প্রশাসনের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেমন ছড়িয়ে থাকা আলোকে লেজারে রূপান্তর করলে তার শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়, তেমনি সম্মিলিত দক্ষতা ও আন্তরিকতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রশাসন আরও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে।
তিনি কর্মকর্তাদের মুক্তভাবে মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক দূরত্ব কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি প্রশাসনের সর্বস্তরে দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে অযথা সন্দেহ তৈরি হয়। তাই মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।