সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি (সোনারগাঁ সার্কেল) তৌফিকুর রহমান, সহকারী কমিশনার ভূমি (কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল) ফাইরুজ তাসনিম, ওসি মো মহিবুল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধিরা।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উপজেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের জন্য একজন করে “ট্যাগ অফিসার” নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেল সরবরাহে অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি ও কালোবাজারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থাপনায় ট্যাগ অফিসাররা প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুদের হিসাব যাচাই করবেন। ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় উপস্থিত থেকে পরিমাপ নিশ্চিত করা, চালান ও পে-অর্ডারের সাথে মিলিয়ে দেখা এবং রেজিস্ট্রারে তথ্য সংরক্ষণ হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করবেন তারা।
এছাড়া ডিসপেন্সিং মেশিনের মিটার রিডিং, দৈনিক বিক্রয় ও মজুদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা শনাক্তকরণ এবং অনুমোদিত মজুদ ক্ষমতা যাচাইও এই তদারকির আওতায় থাকবে।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে দিনে অন্তত তিনবার (সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা) স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রথমবার সতর্কবার্তা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং তৃতীয়বার লাইসেন্স সাময়িক স্থগিতের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া পাম্প খোলা রাখা, নির্ধারিত দামে বিক্রি, ক্যাশ মেমো প্রদান, লাইনে তেল সরবরাহ এবং অবৈধভাবে কন্টেইনারে বিক্রি বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় জিও-ট্যাগসহ রিপোর্ট করতে হবে ট্যাগ অফিসারদের। প্রতিদিনের এই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভোক্তারা নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন বলে আশা করছেন।