স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত একটি বাঁধ, যা মধ্যনগর জামে মসজিদের পাশের কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত, ভেঙে যায়। ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুতগতিতে পানি হাওরে প্রবেশ করে মুহূর্তেই ফসল প্লাবিত হয়।
হাওরে ধান কাটতে যাওয়া কৃষকরা হঠাৎ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ তাদের সামনে তখন ডুবন্ত ফসল রক্ষা না বাঁধ মেরামতের চেষ্টার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ঘটনাস্থলে স্থানীয় কৃষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হলেও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ ও যথাযথ প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এই বিপর্যয় ঘটে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বোয়ালা হাওরে মোট ৫৭৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান ছিল, যার মধ্যে প্রায় ৪৬০ হেক্টর ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে বাঁধ ভেঙে অন্তত ৮৪ হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে বলে সরকারি হিসাব, যদিও কৃষকদের দাবি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ হেক্টর।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আকস্মিক পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণেই বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ধান কাটা শেষ হওয়ার পর বাঁধ ভেঙেছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।