আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার আলোচনার মূলে রয়েছে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সম্প্রতি সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কৌশলগত মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের পদ নিয়ে বা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে দলের বাইরে ব্যক্তি হিসেবে কেউ যদি ক্লিন ইমেজ আওয়ামী লীগপন্থী হন, তবে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্যের সহজ অর্থ হলো, দলীয়ভাবে বা দলীয় প্রতীকে না পারলেও, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার পথ কার্যত খোলাই থাকছে। আর একেই দলটির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের প্রথম ধাপ বা ব্যাকডোর এন্ট্রি হিসেবে দেখছেন অনেকে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার গুঞ্জন শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, মাঠের কিছু ঘটনাও এর সপক্ষে ইঙ্গিত দিচ্ছে। অতি সম্প্রতি কারামুক্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার এই মুক্তি তৃণমূলের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হলেও আওয়ামী লীগের পক্ষে ছোটখাটো মিছিল-মিটিংয়ের চেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নেতাকর্মীদের আবার সক্রিয় হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি তাদের মাঠ গোছানোরই একটি অলিখিত চেষ্টা।
আওয়ামী লীগের এই ফিরে আসার গুঞ্জন বা তৎপরতাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং গণঅভ্যুত্থানের পেছনের মূল কারিগররা। তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য এবং মাঠের এই সমীকরণের পর এনসিপি নেতা ও অন্তর্বতী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কড়া ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের এভাবে কোনো ছদ্মবেশে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। তিনি এক টকশোতে জানান, রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। এর মধ্যেই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা ছাত্র-জনতা কঠোর হস্তে দমন করবে। তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে, আওয়ামী লীগ ফেরার চেষ্টা করলেও দেশের একটি বড় অংশ তাদের প্রতিহত করতে রাজপথে নামতে প্রস্তুত।
২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একদিকে যেমন আইনি ও কৌশলগত ফাঁকফোকর গলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ফেরার একটা চেষ্টা বা আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তিরা তা রুখে দিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।