ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের অঘোষিত সম্রাজ্ঞী শাবনূর এখন সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। একমাত্র ছেলে আইজানকে নিয়ে সিডনিতে তার জীবন কাটছে। অনিয়মিতভাবে দেশে আসলেও বর্তমানে চলচ্চিত্র থেকে তিনি যোজন যোজন দূরে। মাঝেমধ্যে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের সঙ্গে নিজের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত শেয়ার করেন তিনি।
‘প্রিয়দর্শিনী’ মৌসুমী এখনো চলচ্চিত্রে সক্রিয়। মাঝে অভিনয়ে কিছুটা বিরতি দিলেও বর্তমানে বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। অন্যদিকে, চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা বড় পর্দার পাশাপাশি উপস্থাপনা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের জাত চিনিয়ে যাচ্ছেন। তার গ্ল্যামার এবং সমসাময়িক কাজগুলো প্রমাণ করে যে তিনি সময়ের সঙ্গে নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন।
এক সময় যাকে ঘিরে ‘হট’ ইমেজের তকমা ছিল, সেই মুনমুন এখন একেবারেই অন্য জীবনযাপন করছেন। বিয়ে এবং সন্তান নিয়ে তিনি সংসারী। দীর্ঘ বিরতির পর মাঝেমধ্যে তাকে ব্র্যান্ড প্রমোশন, টিভিসিতে দেখা যাচ্ছে। উনারও চাওয়া এখনও চলচ্চিত্রকে ঘিরে। এই রুপালি জগতেই ফিরতে চান তিনি। বর্তমানে আধুনিক নায়িকাদের বোল্ডনেস বা স্টাইল মুনমুনের আমলের চেয়েও অনেক বেশি খোলামেলা বা ‘হট’ বলে অনেকে মনে করেন, যা চলচ্চিত্রের পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে মুনমুন নিজের সময়ে যে সাহসী ইমেজ তৈরি করেছিলেন, তা আজও চর্চিত হয়।
ঢালিউডের এক সময়ের চর্চিত নায়িকা ময়ূরী এখন চলচ্চিত্র জগৎ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। ধার্মিক জীবন এবং দুই সন্তানকে নিয়ে সংসারেই তার পূর্ণ মনোযোগ। মাঝেমধ্যে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
শাহনূর এখনো বিনোদন অঙ্গনে টিকে আছেন। নাটক, চলচ্চিত্র এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। চলচ্চিত্রের মানুষের অধিকার আদায়ে শিল্পী সমিতির নানা কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়।
নব্বই দশকের নায়িকাদের আবেদন ছিল মূলত তাদের পর্দা উপস্থিতি ও অভিনয়শৈলীর মিশেলে। বর্তমান সময়ের নায়িকারা অনেক বেশি ফিটনেস সচেতন এবং সোশ্যাল মিডিয়াকেন্দ্রিক। তখনকার নায়িকাদের ‘হট’ ইমেজের সংজ্ঞার চেয়ে বর্তমান সময়ের নায়িকারা আধুনিক পোশাক ও স্টাইলিংয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। তবে সেই সময়কার পপি, শিমলা বা নাসরিনদের যে তুমুল জনপ্রিয়তার জোয়ার ছিল; বর্তমানের ডিজিটাল যুগে সেই উন্মাদনা অনেকটা বিভক্ত হয়ে গেছে।