গত বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ঘোষণার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও শনিবার পর্যন্ত অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার পর অন্তত ২৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করেছে।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, সমঝোতার পরও প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেসব জাহাজকে অনুমতি দিচ্ছে, কেবল তারাই হরমুজ অতিক্রম করতে পারছে। অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বাংলার জয়যাত্রা।
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা, বিস্ফোরণের শব্দ এবং সামরিক তৎপরতার মধ্যেই সময় কাটিয়েছেন। নাবিকদের পরিবারও উদ্বেগে রয়েছে। সমঝোতার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করলেও এখনো সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে জাহাজটি। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরপরই ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা শুরু হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়।
জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় প্রতিবারই ফিরে আসতে হয়েছে।
ফলে কবে নাগাদ জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত। পারস্য উপসাগরে নোঙর করা জাহাজটিতে থাকা ৩১ বাংলাদেশি নাবিক প্রতিদিন অপেক্ষা করছেন সেই অনুমতির জন্য।