শুক্রবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্প স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও বাস্তবায়নে ছিল ‘ক্লাসিক মিসম্যানেজমেন্ট’। বর্জ্য পরিশোধনাগারের সক্ষমতা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। একই সঙ্গে স্থানান্তরের পর অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারেনি, অনেকগুলো মাঝপথেই হারিয়ে গেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ানো ও ক্রোমিয়াম রিকোভারি নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়ে অচল বা দুর্বল হয়ে গেছে, সেগুলোকে কীভাবে আবার লাভজনক করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
নিজস্ব ইটিপি স্থাপনে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চামড়াবোঝাই ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠেছে সাভারের চামড়া শিল্প নগরী। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করে শিল্প নগরীতে। শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত সেখানে জমা হয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬৫০ পিস চামড়া।
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও শিল্প নগরীর বিভিন্ন ট্যানারিতে দেখা গেছে ব্যস্ততা। শ্রমিকরা ট্রাক ও পিকআপ থেকে চামড়া নামিয়ে আলাদা করছেন লেজ, কান ও মাথার অংশ। পরে চামড়ায় লবণ মেখে স্তূপ আকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
ট্যানারি শ্রমিক মো. করিম জানান, ঈদের প্রথম দিনের তুলনায় এখন চাপ কিছুটা কমেছে। তারা পিস হিসেবে কাজ করেন। প্রতি পিস চামড়া নামাতে ১০ টাকা, লবণ দিতে ৫০ টাকা, পরে স্তূপ ভাঙতে ৫ টাকা এবং এক ট্যানারি থেকে অন্য ট্যানারিতে নিতে আরও ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক পান।
চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে কাঁচা চামড়া কাটিং করে লবণ দিয়ে স্তূপ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পর সেগুলো ড্রামে দিয়ে ‘ওয়েট ব্লু’ তৈরির কাজ শুরু হবে। এরপর কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত হয়ে চামড়া প্রস্তুত করা হবে।
বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত শিল্প নগরীতে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬৫০ পিস চামড়া জমা হয়েছে। এর আগে বিকেল ৬টা পর্যন্ত আসে ৫ লাখ ২ হাজার ৭৯৬ পিস চামড়া।