শনিবার (১৬ মে) দুপুরে প্রধান অতিথি থেকে এ কুমন লার্নিং সেন্টারের উদ্বোধন করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ্যাড: দীপেন দেওয়ান এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার জন্য মোনোঘরের ভূমিকা বিশাল। এটি পাহাড়ের শিক্ষার বাতিঘর।
মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধ পরিকর। এছাড়াও কুমন এর মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে মনোঘর আবাসিক বিদ্যালয় ও কলেজে কুমন লানিং সেন্টারের উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
মনোঘরের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্বালংকার মহাথেরোর সভাপতিত্বে এসময় ব্র্যাক কুমন লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার নেহাল বিন হাসান, এমইউএফজি ব্র্যাক লিমিটেড, বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কিমুরা কেঞ্জি, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফআই) গোলাম কিবরিয়া, মোনোঘরের মহাসচিব কীর্তি নিশান চাকমা ও জাইকার বাংলাদেশ অফিসের স্পেশাল এডভাইজার কিয়োশি আমাদাসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে।
বক্তারা বলেন, জাপানে উদভূত এবং বিশ্বের ৬২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রচলিত কুমন মেথড স্বশিক্ষিণ, প্রতিদিনের অনুশীলন, শক্তিশালী ভিত্তি গঠন, মনোযোগ এবং স্বাধীনভাবে শেখার সক্ষমতার ওপর জোর দেয়। প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের জন্য এই ধরনের নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা সহায়তা মৌলিক দক্ষতা অর্জন ও আত্নবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে ৮শ' এর বেশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বক্তব্য পর্বের পাশাপাশি মনোঘরের শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা,কুমন লানিং সেন্টার পরিদর্শন এবং বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও আয়োজিত হয়।
উল্লেখ্য- ১৮৭৪ সাল থেকে মনোঘর পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করে আসছে। মনোঘরে কুমন লানিং সেন্টারের এই যাত্রা বাংলাদেশের আরো বেশি শিশুর কাছে কাঠামোবদ্ধ ও স্বশিক্ষিন ভিত্তিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে ব্র্যাক কুমনের অগ্রযাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই কার্যক্রমের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪০ জন শিক্ষার্থী ব্র্যাক কুমন ইন- স্কুল প্রোগ্রামের মাধ্যমে কুমন মেথডে পড়াশুনা শুরু করবে। এদের অনেকেই জুমচাষি পরিবারের সন্তান।
জাপানে উদভূত এবং বিশ্বের ৬২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রচলিত কুমন মেথড স্বশিক্ষিণ, প্রতিদিনের অনুশীলন, শক্তিশালী ভিত্তি গঠন,মনোযোগ এবং স্বাধীনভাবে শেখার সক্ষমতা র ওপর জোর দেয়। প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের জন্য এই ধরনের নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা সহায়তা মৌলিক দক্ষতা অর্জন ও আত্নবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে যত বেশি শিশুর কাছে কুমন মেথড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব - এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ব্র্যাক ও জাপানের কুমন ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের মধ্যে পার্টনারশীপ গড়ে উঠেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৩৫টিরও বেশী কুমন সেন্টার পরিচালনার পাশাপাশি ব্র্যাক কুমন লিমিটেড উন্নয়ন সংস্থা গুলোর সঙ্গে ইন- স্কুল ও সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছেও পৌছাচ্ছে। বর্তমানে এ ধরনের বেশ কয়েকটি কার্যক্রমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিশুরা কুমন মেথড শেখার সুযোগ পাচ্ছে।