অনুসন্ধানে জানা গেছে, সার্ভেয়ার মাসুম ও তার সহযোগীরা এলাকায় দীর্ঘদিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের সুযোগকে পুঁজি করে বিভিন্ন কৌশলে টাকা আদায় করছে।
সম্প্রতি দাগ নং ৬২২: জনৈক বাদশার (পিতা: মৃত মহসিন) সাথে সার্ভেয়ার চক্রটি ৩ লাখ টাকার চুক্তি করে। বাদশার বোন জামাইয়ের বাড়িতে বসবাস করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাদশার কাছ থেকে ইতিমধ্যে ১৫০০০০/- টাকা নেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা ঈদের পর দেওয়ার শর্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই চুক্তির আড়ালে চক্রটি ৩ কাঠা জমি অতিরিক্ত রেকর্ডের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে।
এছাড়াও দাগ নং ৭১০: চরশ্যামপুর প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের (পিতা: মৃত আ. মন্ডল) কাছ থেকেও একইভাবে ৩ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে থাকা সম্পত্তির বিরোধ মেটানোর নাম করে ইতিমধ্যে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১ লাখ টাকা কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার শর্ত ছিল। অথচ এই চুক্তির আইনি বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সার্ভেয়ার মাসুম ও তার সহযোগী বাবলু এলাকায় ভূমি অফিসের প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। তারা রেকর্ডের নামে ভুয়া কাগজ তৈরি করে জমির প্রকৃত মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং নিজেদের আখের গোছাচ্ছে। যারা তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে পারছেন না, তাদের জমিতে রেকর্ডের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ভূমি রেকর্ড বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া সার্ভেয়ার মাসুমের পক্ষে এই ধরনের জালিয়াতি চালানো সম্ভব নয়। দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে অনেক সাধারণ মানুষ তাদের পৈত্রিক ভিটা ও জমিজমা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন অনতিবিলম্বে সার্ভেয়ার মাসুম ও বাবলুর কর্মকাণ্ড তদন্ত করা হয় এবং তাদের প্রতারণার শিকার হওয়া মানুষের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা লেনদেন এবং অন্যের সম্পত্তির রেকর্ড করার বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার মাসুম বলেন, এ ধরনের কোনো অনৈতিক কার্যক্রমের সাথে আমি জড়িত নয়। কিন্তু তার অর্থ লেনদেনে তার সহযোগী বাবলু ও এলাকার কিছু অসাধু বাসিন্দা তাকে সহযোগিতা করছে এমন প্রশ্নের মুখে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং সরাসরি প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে চান।
এ বিষয়ে রাজশাহীর দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের দায়িত্বরত চার্জ অফিসার নীলুফা সরকার বলেন, আমি কিছুই এ পর্যন্ত জানি না, আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। এরকম কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকে তাহলে এটার অভিযোগসহ, প্রমাণসহ আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব। এছাড়া যে টাকা দিবে সেও অপরাধী আর যে টাকা নিবে সেও সমান অপরাধী। কোন ভুক্তভোগী যদি আমার কাছে আসে বা আমি যদি জানি, লিখিত ডকুমেন্টস বা মৌখিকভাবেও আমি সাথে সাথেই তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করি।