মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।
রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচল প্রকল্পের সেক্টর-১-এর ৪০৫ নম্বর সড়কের ১১ ও ১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে প্লট দুটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি ধারায় তাঁদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও একই দুই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিটি ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ড থেকে বাদ যাবে এবং দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটি করে। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।