মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সংকট ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে প্রতিদিন ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও দুই কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা লাইনের সৃষ্টি হয়েছে, যা জনজীবনে মারাত্মক ভোগান্তি ডেকে আনছে।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা তেল পাম্প মালিকদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা দিয়ে তেল বিক্রির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ একযোগে পাম্পে ছুটে আসছেন। এতে করে অল্প সময়ে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে এবং লাইনের দৈর্ঘ্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তাই এই সমস্যা নিরসনে পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে তেল আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা বিতরণের নির্দেশ দেন তিনি। আজ দুপুরে গাংনী উপজেলার হোসেন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনের সময় উপরিউক্ত কথাগুলো বলেন তিনি।
শনিবার ভোর চারটা থেকেই গাংনী উপজেলার হোসেন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে জড়ো হন শত শত মোটরসাইকেল চালক। পাম্প থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাদের। প্রচণ্ড রোদ ও খরার মধ্যেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না।
বর্তমানে প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। তবে লাইনে দাঁড়ানো সবাই শেষ পর্যন্ত তেল পাবেন কিনা, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে করে কর্মজীবী মানুষ তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পড়ছেন চরম বিপাকে।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তারা তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানান।