রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামে নিহতদের পরিবারের কাছে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মো. আব্দুল আজিজ বেঁচে ফিরলেও হারিয়েছেন তার ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমীর খাতুন জেসমিন (৩০), ছেলে আব্দুর রহমান অমীত (১১) এবং খালা শাশুড়ি নাসিমা বেগম। যেখানে আগে ঈদের প্রস্তুতি চলছিল, এখন সেখানে নিস্তব্ধতা আর আহাজারি।
নাসিমা বেগমের মরদেহ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ীর মথুয়ারাই গ্রামে পাঠানো হয়ে সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, একসাথে এতগুলো লাশ দেখা সত্যিই সহ্য করা কঠিন।
বোয়ালিয়া ইউনিয়নে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ হারান স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮)। স্ত্রীর জানাজা শেষে স্বামীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পৌঁছালে পরিবার আবারো শোকে ভেঙে পড়ে।
ভবানীপুর গ্রামের ফাইজ শাহনূর (১১) এবং মদাপুর ইউনিয়নের আশরাফুল ইসলাম (২৪) ও কালিকাপুর ইউনিয়নের উজ্জ্বল খানও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাদের দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র মাধ্যমে বাসটি তোলা হয়।
ঈদের পরবর্তী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কালুখালীজুড়ে এখন শুধু শোক, কান্না এবং বুকফাটা আহাজারির ছায়া নেমে এসেছে।