অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর বিভিন্ন মহল থেকে তাদের আমলের সম্ভাব্য দুর্নীতির তদন্তের দাবি ওঠে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানও এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানান। এরই মধ্যে কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিদেশ সফর ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুলশানের নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। তিনি অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনার পাশাপাশি ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) রূপকল্প এবং সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি সফর করেছেন।
সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন ঢাকাতেই আছেন। তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখত। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের মুখে অন্তত তিনবার পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন।
নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গবেষণা ও লেখালিখিতে সময় দিচ্ছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার নিজ প্রতিষ্ঠান উবিনীগে ফিরে গেছেন এবং বিভিন্ন জনপরিসরে সক্রিয় রয়েছেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অবসর সময় কাটাচ্ছেন। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার লেখালিখিতে ব্যস্ত। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ দীর্ঘ বিরতির পর নিজের প্রতিষ্ঠান ব্রতীতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজে ফিরেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে জনসমক্ষে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সম্প্রতি স্ত্রীসহ অস্ট্রেলিয়া সফরে গেছেন। সফরটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হলেও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের বিরুদ্ধে সমালোচনাকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরেছেন এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বই লেখার কাজে মনোযোগ দিয়েছেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আকিজ-বশির গ্রুপের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম পুরোনো কর্মস্থল গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরলেও সাম্প্রতিক সময়ে জনসমক্ষে খুব কম দেখা যাচ্ছে।
শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান আবারও মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে নিয়মিত শিক্ষকতা করছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা, ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক, প্রাথমিক শিক্ষা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টারাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর অধিকাংশ আলোচিত উপদেষ্টা জনসমাগম এড়িয়ে চললেও বিতর্কের বাইরে থাকা কয়েকজন ইতোমধ্যে স্বাভাবিক পেশাগত জীবনে ফিরে গেছেন।