রোববার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় হতো, ২০২৬ সালের মে মাসে একই পণ্য কিনতে খরচ হয়েছে ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রভাব বাজারে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকায় নির্ধারণ করে। পরে ৩১ মে আরও এক দফা দাম বাড়ানো হলেও এর প্রভাব মে মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় ছাড়াও কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পোশাক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবার ব্যয়ও বাড়ে।
বিবিএসের হিসাবে, মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে।
শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি রয়েছে। মে মাসে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ছিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এদিকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে।