গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আকাশ বিশ্বাস (২৫) নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে।
নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের সরকেলডাঙ্গা গ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২ জুলাই সকালে মারা যান। ওই দিন বিকালে মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।
সন্ধ্যায় স্থানীয় মাদরাসা প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারসহ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাঁশগ্রাম বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিহতের বাড়ির সন্নিকটে সরকেলডাঙ্গা মাদরাসার সামনে শেষ হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় নেতারা।
এর আগে গত ২৪ জুন সকালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী আনোয়ার বাড়ি থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। ওই দিন রাতে সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ায় আনোয়ারকে চোর সন্দেহে কয়েকজন গাছের সঙ্গে বেঁধে ভোর রাত পর্যন্ত অমানবিক নির্যাতন ও মারধর করে। ২৫ জুলাই সকালে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান এবং মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান।
আনোয়ারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী আনোয়ারের ভাই নবীর হোসেন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনাম আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আকাশকে যশোর জেলার নারকেলবাড়িয়ায় তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আকাশ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে খাটের নিচে পালিয়ে ছিলেন। গ্রেপ্তার আকাশ প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি। ঘটনার পর থেকে আকাশ পলাতক ছিলেন। আকাশকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।